
বার্সেলোনা ও ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার দানি আলভেস কারাগারে থাকাকালে খ্রিষ্টীয় সুসমাচারের প্রচারক হয়ে ওঠেন। তাঁর ভাষায়, জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময়ে তিনি ঈশ্বরের দেখা পেয়েছেন।

বার্সেলোনার একটি নৈশক্লাবের শৌচাগারে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আলভেসকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ১৪ মাস বন্দি থাকার পর কাতালোনিয়ার উচ্চ আদালতের সব বিচারক সর্বসম্মতভাবে তাঁর আপিল মঞ্জুর করেন এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেন।
কারাগার থেকে মুক্তির পর আলভেস জানান, তিনি আলোর সন্ধান পেয়েছেন এবং খ্রিষ্টীয় সুসমাচারের প্রচারক হয়েছেন। একটি পডকাস্টে সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময়ে আমি ঈশ্বরের দেখা পেয়েছি।”
সুসমাচার প্রচারক যাজক কার্লোস এনরিকে লুনাকে তিনি বলেন, “আমি বুঝেছি, জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময়ে যখন পুরো পৃথিবী অদৃশ্য হয়ে যায়, তখন আসলে ঈশ্বরের আবির্ভাবের মঞ্চ তৈরি হয়। সবাই চলে গেলে এবং সবকিছু স্তব্ধ হয়ে এলে তিনি এসে আমাকে উদ্ধার করেন।”
প্রথমবার থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যাওয়া এবং পরে গ্রেপ্তার হওয়ার মুহূর্ত স্মরণ করে আলভেস বলেন, “গ্রেপ্তারের সেই মুহূর্তে আমি প্রথমবার সত্যিকারভাবে আত্মার অস্তিত্ব অনুভব করেছিলাম। মনে হচ্ছিল, আত্মা শরীর ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, আর আমি সেখানেই পুরোপুরি স্থির হয়ে গিয়েছিলাম।”
ব্রায়ান্স ২ নম্বর কারাগারে পাঠানোর কয়েক দিন পর আলভেসের ঈশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তিনি বলেন, “তিনি বেড়ার ওপাশে আবির্ভূত হয়ে আমাকে বার্তা দিয়েছিলেন। ঈশ্বর সব সময় আমার কাছেই ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এই দানি, চিন্তা কোরো না, সবকিছুরই ভালো পরিণতি হবে।’ এরপর তিনি অদৃশ্য হয়ে যান।”
আলভেস আরও বলেন, “সেই মুহূর্তে আমি শান্তি অনুভব করেছিলাম; কোনো কিছু নিয়েই আর ভাবছিলাম না। এর আগে কয়েক দিন ধরে ঘুমাতে পারছিলাম না, কিন্তু সেদিন মনে হয়েছিল, আমার আত্মা আবার শরীরে ফিরে এসেছে।”
আলভেস জানান, তিনি “সেই মূল্যবান মুক্তাটি খুঁজে পেয়েছেন”; তাই অন্য কোনো কিছুই তাঁকে মনোযোগচ্যুত করবে না। তিনি বলেন, “এরপর যা ঘটবে, সবই সুন্দর হবে, কারণ আমি ত্রাণকর্তার দেখা পেয়েছি।”
এই বিশ্বাসই জীবনের কঠিন সময়ে আলভেসকে কারাবাস সহ্য করার শক্তি দিয়েছিল। তিনি বলেন, “তখন কিছুই করতে ইচ্ছা করত না, আমি তীব্র বিষণ্নতায় ডুবে ছিলাম। কিন্তু একটি ছোট্ট বাক্য আমার জীবনের অর্থ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। পরিত্রাণ সব সময় জটিল হতে হয় না; সান্ত্বনার একটি কথাই আমাকে সেই কঠিন দিনগুলো পার করার শক্তি দিয়েছিল।”