
সম্প্রতি সাবেক চীন জাতীয় দলের কোচ মিলুতিনোভিচ মিগু স্পোর্টসের সাক্ষাৎকারে ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

মিলু বলেন: “সবাই আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ডের সেই ম্যাচ নিয়ে কথা বলছে। লোকে জিজ্ঞেস করে, আর্জেন্টিনা কেন জিতল? আর্জেন্টিনা জিতেছে কারণ তাঁদের খেলোয়াড়রা—বিশেষ করে কোচ—ম্যাচটা খুব সঠিকভাবে পড়েছেন। তিনি বুঝেছেন মাঠে কী পরিবর্তন দরকার, তাই পাঁচবার বদলি করেছেন। সেই পাঁচ বদলি শুরু হয় ৭২তম মিনিট থেকে।
“অন্যদিকে ইংল্যান্ড আর তাঁদের কোচ প্রত্যাশিতভাবে ম্যাচ পড়তে পারেননি; শেষ দুই-তিন মিনিটে এসে (শেষ দুই বদলির সুযোগ) বদলি করেন—সেটা অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমি সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই, ট্যাকটিকাল পরিকল্পনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে সবসময় প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে, শুধু নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে থাকলে চলবে না। ইংল্যান্ডের তো এত ভালো খেলোয়াড় আছে—কেন, বেলিংহ্যাম—অথচ শেষ ২০ মিনিটে দুজনেই নিজেদের বক্স রক্ষা করছেন। নিজেদের অর্ধেই যদি থাকেন, তাহলে গোল করবেন কী করে?
“একটা পরিসংখ্যান মনে করিয়ে দিই—সেই ম্যাচের বল দখল: আর্জেন্টিনা ৬৪%, ইংল্যান্ড মাত্র ৩৬%। এটা স্পষ্ট—জিততে হলে মনোভাব লাগে; সবসময় আরও বুদ্ধিমানভাবে খেলতে হবে, প্রতিপক্ষের জায়গা বন্ধ করতে হবে, কিন্তু সবচেয়ে জরুরি হলো আক্রমণাত্মক থাকা এবং প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি আগ্রাসী হওয়া। কেউ জিজ্ঞেস করে, আপনি কী মনে করেন? আমার কাছে উদাহরণ—‘মনোভাবই সব’ (মিলু টুপিটা দেখান)। এর মানে কী? মানে আমি নিজের গোলের সামনে ২০ মিটার জায়গায় বসে প্রতিপক্ষের আক্রমণের অপেক্ষা করতে পারি না।
“আর্জেন্টিনার গোল একদিকে মেসির অসাধারণ ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে এসেছে, অন্যদিকে ডিফেন্ডারদের অবহেলা, অসতর্কতা আর মনোযোগের অভাবও ছিল। এইসব কারণেই ইংল্যান্ড আবার ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি।
“অভিনন্দন আর্জেন্টিনাকে, অভিনন্দন যাঁদের মনোভাব সঠিক আর লড়াইয়ের মনোবল উঁচু। তাঁরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রেখেছেন, ইংল্যান্ডের অর্ধে চাপ রেখে আক্রমণ করেছেন—জিততে হলে এটাই পথ, তাঁরা জানতেন। তাই একটা দলকে সবসময় বুদ্ধিমানভাবে সামনে চাপ তৈরির কথা ভাবতে হয়। সামনের ম্যাচ খুবই মজার হবে—আর্জেন্টিনা এবার স্পেনের মুখোমুখি। এই বিশ্বকাপ উপভোগ করুন।”